আম্বেদকর ও দলিত ভাবনা
₹800
ভারতীয় রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ্যবাদী এবং বর্ণাশ্রমবিভাজিত সমাজের জাতিগত দ্বেষণা ও অস্পৃশ্যতার বেড়াজাল ভেঙে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত এবং দার্শনিক বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকরকে মাথা তুলে দাঁড়াতে হয়েছিল। সামাজিকভাবে নিগৃহীত ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত দলিত-মানুষদের সাম্য ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁকে আজীবন লড়াই করতে হয়েছে। তাঁর সামনে তখন বড়ো বাঁধা ছিল জাতপাত, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় ও বর্ণগত বৈষম্য। 'মনুসংহিতা'য় বিন্যস্ত এইসব অমানবিক, অশুভ লোকাচারকে তথাকথিত ভগবানের নামে সিলমোহর দিয়ে সংবিধান হিসেবে এরা সমাজ শাসন করেছেন। এ-সব শত্রুর শেকড় উপড়ে ফেলতে আম্বেদকরকে দলিতদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে, সচেতনতা বাড়িয়ে তাঁদের দাবি দাওয়াকে একটি আন্দোলনে সংহত করতে হয়েছে। সমাজে জগদ্দল পাথরের মতো বসে থাকা বর্ণবাদী সংখ্যালঘু একটি অংশের বিরুদ্ধে তাঁকে প্রতিনিয়ত প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়েছে। কিন্তু তিনি এঁদের কুটবুদ্ধির সঙ্গে পেরে ওঠেননি। সংবিধানের চেয়ারম্যান হয়ে প্রতি পদে পদে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়েও তিনি সমাজের দলিত, নিরন্ন ও দুর্বল মানুষের মুক্তির জন্য সংবিধানে কিছু সুযোগ-সুবিধার সংস্থান রেখে যেতে পেরেছিলেন। এরই সুফল ভোগ করছেন এঁরা এখন। তবুও ধর্মের নাগপাশ থেকে মুক্ত হতে শেষ পর্যন্ত তাঁকে মানবতাবাদী বৌদ্ধদর্শনের কাছেই বিনতি মানতে হয়েছে। তিনি জাতপাত, অস্পৃশ্যতা, সামাজিক, অর্থনৈতিক, বর্ণাশ্রম, বর্ণগত বৈষম্য ইত্যাকার নানান অশুভ সামাজিক ব্যাধির বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর শিকড় তুলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রবন্ধ ও গ্রন্থ লিখেছেন: আইনমন্ত্রী হয়ে আইন তৈরি করেছেন ওইসব মানবতাবিরোধী বিষি ও বিধানের বিরুদ্ধে। তিনি চেয়েছিলেন জাতপাতহীন এক সমাজতান্ত্রিক সমাজ গড়তে। তাঁর স্বপ্নের সেই সামাজিক কাঠামোর পত্তন ও দলিতমুক্তির সামগ্রিক দলিতভাবনার বিশ্লেষণ নিয়েই তৈরি হয়েছে অমোঘ এই গ্রন্থটি
আম্বেদকর ও দলিত ভাবনা
₹800
ভারতীয় রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ্যবাদী এবং বর্ণাশ্রমবিভাজিত সমাজের জাতিগত দ্বেষণা ও অস্পৃশ্যতার বেড়াজাল ভেঙে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত এবং দার্শনিক বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকরকে মাথা তুলে দাঁড়াতে হয়েছিল। সামাজিকভাবে নিগৃহীত ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত দলিত-মানুষদের সাম্য ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁকে আজীবন লড়াই করতে হয়েছে। তাঁর সামনে তখন বড়ো বাঁধা ছিল জাতপাত, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় ও বর্ণগত বৈষম্য। 'মনুসংহিতা'য় বিন্যস্ত এইসব অমানবিক, অশুভ লোকাচারকে তথাকথিত ভগবানের নামে সিলমোহর দিয়ে সংবিধান হিসেবে এরা সমাজ শাসন করেছেন। এ-সব শত্রুর শেকড় উপড়ে ফেলতে আম্বেদকরকে দলিতদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে, সচেতনতা বাড়িয়ে তাঁদের দাবি দাওয়াকে একটি আন্দোলনে সংহত করতে হয়েছে। সমাজে জগদ্দল পাথরের মতো বসে থাকা বর্ণবাদী সংখ্যালঘু একটি অংশের বিরুদ্ধে তাঁকে প্রতিনিয়ত প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়েছে। কিন্তু তিনি এঁদের কুটবুদ্ধির সঙ্গে পেরে ওঠেননি। সংবিধানের চেয়ারম্যান হয়ে প্রতি পদে পদে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়েও তিনি সমাজের দলিত, নিরন্ন ও দুর্বল মানুষের মুক্তির জন্য সংবিধানে কিছু সুযোগ-সুবিধার সংস্থান রেখে যেতে পেরেছিলেন। এরই সুফল ভোগ করছেন এঁরা এখন। তবুও ধর্মের নাগপাশ থেকে মুক্ত হতে শেষ পর্যন্ত তাঁকে মানবতাবাদী বৌদ্ধদর্শনের কাছেই বিনতি মানতে হয়েছে। তিনি জাতপাত, অস্পৃশ্যতা, সামাজিক, অর্থনৈতিক, বর্ণাশ্রম, বর্ণগত বৈষম্য ইত্যাকার নানান অশুভ সামাজিক ব্যাধির বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর শিকড় তুলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রবন্ধ ও গ্রন্থ লিখেছেন: আইনমন্ত্রী হয়ে আইন তৈরি করেছেন ওইসব মানবতাবিরোধী বিষি ও বিধানের বিরুদ্ধে। তিনি চেয়েছিলেন জাতপাতহীন এক সমাজতান্ত্রিক সমাজ গড়তে। তাঁর স্বপ্নের সেই সামাজিক কাঠামোর পত্তন ও দলিতমুক্তির সামগ্রিক দলিতভাবনার বিশ্লেষণ নিয়েই তৈরি হয়েছে অমোঘ এই গ্রন্থটি